বাংলাদেশের জন্মদান হারে পরিবর্তন:নারী ও বিবাহিত কিশোরীদের ওপর এর প্রভাব কী?

Spread the love

বাংলাদেশে জন্মদান হার (fertility rate) আবার বেড়েছে, এটি নীতিনির্ধারকদের জন্য সতর্কতাস্বরূপ। ১৯৭৫ সালে যেখানে দেশের মোট জন্মদান হার (Total Fertility Rate বা TFR) ছিল ৬.৩, তা ধারাবাহিকভাবে কমে ২০১২ সালে ২.৩-এ নেমে এসেছিল। তবে Multiple Indicator Cluster Survey 2025 অনুযায়ী, বর্তমানে তা বেড়ে ২.৪ হয়েছে। এই বৃদ্ধি সংখ্যার দিক থেকে সামান্য মনে হলেও, দীর্ঘদিনের নিম্নমুখী প্রবণতায় এই পরিবর্তন আশঙ্কাজনক। এটি দেশের স্বাস্থ্য, অর্থনীতি, শিক্ষা ও সামগ্রিক উন্নয়নে প্রভাব ফেলতে পারে।

পরিবার পরিকল্পনা সেবায় প্রবেশাধিকারের ঘাটতি জন্মদান হার বেড়ে যাওয়ার অন্যতম কারন। বিবাহিত নারীদের মধ্যে জন্মনিয়ন্ত্রণ ব্যবহারের হার ২০১৯ সালের ৬২.৭ শতাংশ থেকে কমে ৫৮.২ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। একই সময়ে আধুনিক পদ্ধতির মাধ্যমে নারীদের পরিবার পরিকল্পনার চাহিদা পূরণের হারও ৭৭.৪ শতাংশ থেকে কমে ৭৩.৫ শতাংশে নেমে এসেছে। 

কিশোরীদের ক্ষেত্রে পরিস্থিতি আরও আশঙ্কাজনক। বাংলাদেশে বাল্যবিবাহের হার এখনও ৫৬ শতাংশ, যা অত্যন্ত উদ্বেগের বিষয়। একই সঙ্গে ১৫–১৯ বছর বয়সী কিশোরীদের মধ্যে যারা ইতোমধ্যে সন্তানের মা হয়েছে, তাদের হার ২০১৯ সালের ৮৩ শতাংশ থেকে বেড়ে ৯২ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। বাল্যবিবাহ ও কিশোরী বয়সে সন্তান জন্মদান কিশোরীদের জীবনের ব্যক্তিগত ইচ্ছা-অনিচ্ছা ও সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ সীমিত করে এবং জন্মহার বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখে।

বাংলাদেশ ইতোমধ্যে দেখিয়েছে যে স্বাস্থ্য খাতে ধারাবাহিক উদ্যোগ সুফল বয়ে আনতে পারে। প্রাতিষ্ঠানিকভাবে সন্তান জন্মদানের হার বেড়ে ৭১ শতাংশে এবং দক্ষ স্বাস্থ্যকর্মীর সহায়তায় সন্তান জন্মদানের হার ৭৭ শতাংশে পৌঁছেছে। একই সঙ্গে পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুদের মৃত্যুহার কমে প্রতি এক হাজারে ৩৩ জনে দাঁড়িয়েছে।

পরিবার পরিকল্পনার ক্ষেত্রেও এখন একই ধরনের ধারাবাহিক উদ্যোগ প্রয়োজন। সরকারকে জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতির নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করার পাশাপাশি জনসাধারনদের পর্যায়ের সেবা ও প্রচার কার্যক্রম জোরদার করতে হবে।বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। একই সঙ্গে কিশোরীদের বিদ্যালয়ে পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে এবং তাদের সঠিক ও নির্ভরযোগ্য যৌন-প্রজনন স্বাস্থ্য ও অধিকার (SRHR) বিষয়ক তথ্য দিতে হবে।

বাংলাদেশ জন্মদান হার কমিয়ে আনার ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে। বর্তমানের এই ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা যেন সেই অর্জনগুলোকে ঢেকে না ফেলে বরং এটি আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে পরিবার পরিকল্পনা শুধু জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণের বিষয় নয়; এটি স্বাস্থ্য, অধিকার, নিজের জীবনের সিদ্ধান্ত নেওয়ার স্বাধীনতা এবং পরিবারের ভবিষ্যতের সঙ্গে জড়িত।

সূত্রঃ দ্য ডেইলি স্টার

Leave a Reply