নিরাপদ কর্মপরিবেশে মর্যাদা: নাইরোবির মাসিক স্বাস্থ্য নীতিতে সাহসী পদক্ষেপ

কেনিয়ার নাইরোবি বিশ্বাস করে মাসিক স্বাস্থ্য এখন আর কোনো লুকানো সমস্যা নয়, এটি একটি আনুষ্ঠানিক কর্মক্ষেত্রের অধিকার।

আফ্রিকার বহু দেশে আলোড়ন সৃষ্টি করা এক সিদ্ধান্ত নিয়েছে কেনিয়ার নাইরোবি কাউন্টি। সম্প্রতি তারা একটি নীতি অনুমোদন করেছে, যা নারী কর্মচারীদের প্রতি মাসে দুই দিনের বেতনসহ মাসিক ছুটি (Paid Menstrual Leave) দেবে। এই সিদ্ধান্ত নারীদের তাদের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় সক্ষম করে, বার্ষিক ছুটি কমানোর ঝুঁকি ছাড়াই। এটি ডিসমেনোরিয়া বা তীব্র মাসিক যন্ত্রণা কে একটি বৈধ কর্মক্ষেত্রের সমস্যা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার ক্ষেত্রে  একটি ঐতিহাসিক পদক্ষেপ।

নীতিটি কেনিয়ার জন্য গুরুত্বপূর্ণ এক সময়ে এসেছে, যেখানে মাসিক স্বাস্থ্য ও পরিচ্ছন্নতা ব্যবস্থাপনা (MHM) এখনো দারিদ্র্য ও সামাজিক কলঙ্কের (Social Stigma) সঙ্গে লড়াই করছে। অনেকের জন্য মাসিক কেবল একটি জৈবিক চক্র নয়; এটি একটি আর্থিক সংকট।

তথ্য অনুসারে, কেনিয়ার ৬৫ শতাংশ নারী ও কন্যা শিশু মৌলিক স্বাস্থ্যসামগ্রী কেনার সামর্থ্য রাখে না। নাইরোবির কাওয়াংওয়ারে-এর  দোকানিরা প্রায়ই প্যাডের পুরো প্যাকেট না ভেঙে, আলাদাভাবে বিক্রি করে কারণ গ্রাহকরা পুরো প্যাকেট নিতে পারবে না। এই “মাসিক দারিদ্র্য” প্রায় এক মিলিয়ন মেয়েকে প্রতি মাসে প্রায় চার দিন স্কুলে যেতে বাধা দেয়, যা মোট শিক্ষার সময়ের প্রায় ১১ শতাংশ।

আর্থিক বোঝার বাইরে, সমস্যাগুলো শারীরিক ও সাংস্কৃতিকভাবে গভীর। গ্রামীণ স্কুলগুলোর কেবল ৩২ শতাংশই মেয়েদের Private Space প্রদান করে, ফলে অনেককে অপরিষ্কৃত বিকল্প যেমন কম্বল বা এমনকি Mattress-এর  টুকরো ব্যবহার করতে হয়। ভয়ংকর বিষয় হচ্ছে , গবেষণা দেখায় যে প্রতি দশ জন ১৫ বছরের মেয়ের মধ্যে একজন প্যাড কেনার জন্য লেনদেনমূলক যৌন সম্পর্কের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে। নাইরোবির নতুন নীতি এই Stigma-এর পরিবেশ ভাঙতে চায়, তবে এর দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব নিয়ে তীব্র বিতর্ক দেখে গেছে দেশজুড়ে।

কিছু সমালোচক আশঙ্কা প্রকাশ করছেন যে নীতিটি হিতে বিপরীত হতে পারে, ফলে নারী কর্মীদের  “Costlier” হিসেবে দেখা হতে পারে। সমালোচকরা বলছেন, “এটি এমন একটি নীতি  যা বাস্তবে স্টেরিওটাইপকে বজায় রাখতে পারে,” কারণ নীতিটি যে নারীদের রক্ষা করতে চায়, তাদের ভবিষ্যতের চাকরির সম্ভাবনায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। তবে সমর্থকরা বলছেন, এটি একটি ‘issue of truth and dignity’, কারণ কেউই “অসহনীয় ব্যথা” দমন করে কর্মক্ষম দেখানোর চেষ্টা করতে যাবেননা। 

প্রশ্ন হলো, এটি কি কেনিয়ার মত অন্যান্য আফ্রিকান দেশে ছড়িয়ে পড়বে? এই নীতি কর্মপরিবেশকে সহানুভূতিশীল করবে নাকি শুধু একটি প্রতীকী উদ্যোগই থাকবে, তা সময়ই দেখাবে। আপাতত, কেনিয়ার এই উদ্যোগ একটি দীর্ঘদিনের ‘ট্যাবুকে’ প্রকাশ্য আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে নিয়ে এসেছে।

সূত্রঃ আফ্রিকা নিউজ

Leave a Reply