আভাস-এর উদ্যোগে প্রজনন স্বাস্থ্য ও ডিজিটাল নিরাপত্তায় এক হচ্ছে ভোলার তরুণেরা

তরুণদের স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তার ঝুঁকি এখন আর শুধু ঘরের বাইরে বা স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রে সীমাবদ্ধ নেই। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হয়রানি, ব্যক্তিগত ছবি ও তথ্যের অপব্যবহার, অনলাইন ব্ল্যাকমেইল কিংবা সাইবার বুলিংও তাদের ব্যক্তিগত জীবন, মানসিক সুস্থতা ও অধিকারকে প্রভাবিত করছে।

এমন প্রেক্ষাপটে জাতীয় যুব দিবস ২০২৬ উপলক্ষে ভোলায় অনুষ্ঠিত হয়েছে যুব অধিকার, জেন্ডার সমতা, যৌন ও প্রজনন স্বাস্থ্য এবং ডিজিটাল নিরাপত্তাবিষয়ক আলোচনা সভা। ৩ নভেম্বর ভোলা সদরের গ্রামীণ জনউন্নয়ন সংস্থার প্রশিক্ষণকক্ষে এ আয়োজন করা হয়।

ইয়ুথ শেয়ার-নেট প্রকল্পের আওতায় রেডঅরেঞ্জ এ কার্যক্রমের আয়োজন করে। অ্যাম্পলিফাইচেঞ্জের সহযোগিতায় সভাটি বাস্তবায়ন করে অ্যাসোসিয়েশন অব ভলান্টারি অ্যাকশনস ফর সোসাইটি (আভাস)। এতে বিভিন্ন যুব সংগঠনের প্রতিনিধি, স্বেচ্ছাসেবক, সাংবাদিক এবং সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।

আলোচনায় কৈশোরকালীন স্বাস্থ্য, মাসিক ব্যবস্থাপনা, ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতা, নিরাপদ স্যানিটেশন, বাল্যবিবাহ ও কিশোরী গর্ভধারণের মতো বিষয় উঠে আসে। বক্তারা বলেন, প্রজনন স্বাস্থ্য নিয়ে সামাজিক সংকোচ ও ভুল ধারণা দূর করতে তরুণদের জন্য বিজ্ঞানভিত্তিক তথ্য এবং সহজলভ্য যুববান্ধব স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা জরুরি।

আলোচনার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিল প্রযুক্তিনির্ভর জেন্ডারভিত্তিক সহিংসতা (টিএফজিবিভি)। সাইবার বুলিং, অনলাইন হয়রানি, সাইবার স্টকিং, ব্যক্তিগত ছবি ও তথ্যের অননুমোদিত প্রচার এবং অনলাইন ব্ল্যাকমেইলের ঝুঁকি নিয়ে কথা বলেন অংশগ্রহণকারীরা। বিশেষ করে কিশোরী ও তরুণীদের ডিজিটাল গোপনীয়তা, সম্মতি এবং ব্যক্তিগত তথ্য সুরক্ষার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

বিষয়টি কেবল স্থানীয় উদ্বেগ নয়। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) ও ইউএনএফপিএর ২০২৪ সালের নারী নির্যাতনবিষয়ক জরিপ অনুযায়ী, দেশের ৮ দশমিক ৩ শতাংশ নারী জীবনের কোনো না কোনো সময়ে প্রযুক্তিনির্ভর জেন্ডারভিত্তিক সহিংসতার শিকার হয়েছেন। গত ১২ মাসে এ ধরনের অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন ৫ দশমিক ২ শতাংশ নারী।

অন্যদিকে, বিশ্বব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে বাংলাদেশে ১৫ থেকে ১৯ বছর বয়সী প্রতি এক হাজার কিশোরীর বিপরীতে বছরে প্রায় ৭১টি শিশুর জন্ম হয়েছে।

সভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন ভোলা জেলা যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মো. ফরিদ উদ্দিন এবং ভোলা উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মো. জামাল উদ্দিন।

আলোচনার পাশাপাশি স্থানীয় পর্যায়ে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক যুব ও এসআরএইচআর নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরা হয়। এর মাধ্যমে তরুণদের মধ্যে নিয়মিত যোগাযোগ, অভিজ্ঞতা বিনিময়, তথ্য আদান-প্রদান এবং যৌথ সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনার পরিকল্পনা রয়েছে।

Leave a Reply