মাতৃ ও শিশু স্বাস্থ্য শক্তিশালী করতে ২৫,০০০ মিডওয়াইফ নিয়োগ করবে বাংলাদেশ
বাংলাদেশ গত কয়েক দশকে মাতৃমৃত্যু কমানোর ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে। ১৯৮০-এর দশকের মাঝামাঝি সময়ে প্রতি এক লাখে মাতৃমৃত্যুর হার ছিল ৫৭৪, যা বর্তমানে কমে ১৩৬-এ নেমে এসেছে। এই অগ্রগতি সত্ত্বেও, প্রতি বছর প্রায় ৪,০০০ নারী গর্ভাবস্থা ও সন্তান জন্মদানের কারণে প্রাণ হারান, যার একটি বড় অংশই প্রতিরোধযোগ্য। পাশাপাশি দেশে এখনও প্রায় ৩০ শতাংশ সন্তান-প্রসব বাড়িতেই সম্পন্ন হচ্ছে।
এই ঘাটতি পূরণে মিডওয়াইফরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারেন। বর্তমানে বাংলাদেশে ৭,২৩০ জন নিবন্ধিত ডিপ্লোমাধারী মিডওয়াইফ রয়েছেন। তবে দেশের ৬,২১৫টি সরকারি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানের বিপরীতে বর্তমানে মাত্র ২,৫৫৭ জন মিডওয়াইফ কর্মরত আছেন। এর পাশাপাশি আরও ৫,০০০টি সরকারি পদ অনুমোদিত হয়েছে, যা ধাপে ধাপে নিয়োগের মাধ্যমে পূরণ করা হবে।
এই সংখ্যাগুলো একটি বিষয় স্পষ্ট করে: প্রশিক্ষিত মিডওয়াইফ থাকাই শুধু যথেষ্ট নয়; যেখানে নারীদের সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন, সেখানে তাদের উপস্থিতি নিশ্চিত করাও সমান গুরুত্বপূর্ণ।
এবার মিডওয়াইফারি খাতে বাংলাদেশ নিতে যাচ্ছে এযাবৎকালের সবচেয়ে বড় উদ্যোগ।
লিসবনে অনুষ্ঠিত International Confederation of Midwives-এর ৩৪তম ত্রিবার্ষিক কংগ্রেসে বাংলাদেশ সরকার ঘোষণা করেছে যে, ২০৩০ সালের মধ্যে সরকারি স্বাস্থ্যব্যবস্থায় ২৫,০০০ মিডওয়াইফ পদ সৃষ্টি ও নিয়োগ করা হবে। ধাপে ধাপে এই নিয়োগ কার্যক্রম বাস্তবায়িত হবে এবং প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানগুলোকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।
কেন এই উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ?
কারণ মিডওয়াইফ যৌন ও প্রজনন, মাতৃ, নবজাতক এবং কিশোর-কিশোরীদের স্বাস্থ্যসেবাসহ প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবার ৯০ শতাংশ পর্যন্ত প্রদান করতে সক্ষম। বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, মিডওয়াইফারি খাতে বিনিয়োগ মাতৃ ও নবজাতকের মৃত্যু কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে এবং একই সঙ্গে সমাজ ও অর্থনীতিতে উল্লেখযোগ্য ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
তাই ২৫,০০০ মিডওয়াইফের এই উদ্যোগ শুধু একটি সংখ্যাগত লক্ষ্যমাত্রা নয়। এর মাধ্যমে নারীদের দোরগোড়ায় মানসম্মত ও দক্ষ মাতৃস্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়ার সুযোগ তৈরি হবে। একই সঙ্গে প্রতিরোধযোগ্য মাতৃমৃত্যু কমানো এবং প্রতি এক লাখে মাতৃমৃত্যু ৭০-এর নিচে নামিয়ে আনার টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (SDG) অর্জনের পথে বাংলাদেশের অগ্রযাত্রা আরও এগিয়ে যাবে।
এখন মূল চ্যালেঞ্জ হলো ২৫,০০০এর এই লক্ষ্যমাত্রাকে বাস্তবতায় রূপ দেওয়া,যাতে প্রয়োজনের সময় ও প্রয়োজনের জায়গায় মিডওয়াইফের সেবা নিশ্চিত করা যায়। কারণ প্রতিটি নিরাপদ জন্মদান একটি মা, একটি নবজাতক এবং একটি পরিবারের জীবনে বড় পরিবর্তন আনতে পারে।
কারণ মিডওয়াইফারিতে বিনিয়োগ মানে শুধু একটি পেশায় বিনিয়োগ নয়। এটি মা, নবজাতক, পরিবার এবং বাংলাদেশের ভবিষ্যতের সুস্থতার ওপর বিনিয়োগ।
