তরুণদের চোখে বাল্যবিবাহ: ছবি ও গল্পে উঠে এলো বাস্তবতা
তরুণরা যখন নিজেদের গল্প বলার সুযোগ পায়, তখন কী ঘটে? কখনো একটি ছবি একটি গল্পের দরজা খুলে দেয়, আর একটি গল্প এমন একটি আলোচনার সূচনা করে, যা একটি কমিউনিটিকে একবার থেমে ভাবতে বাধ্য করে। ঢাকার করাইলের মাচান-এ ২৮ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত “She Speaks Through the Lens – Youth Photovoice Against Child Marriage” শীর্ষক কমিউনিটি ফটোভয়েজ প্রদর্শনীতে তরুণরা আলোকচিত্র ও গল্প বলার মাধ্যমে বাল্যবিবাহ নিয়ে নিজেদের অভিজ্ঞতা ও দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরে।
এটি শুধু আলোকচিত্র প্রদর্শনীর মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না। করাইলের প্রেক্ষাপটে তৈরি এই ফটোভয়েজের উদ্যোগে কিশোরী ও তরুণীদের শিক্ষা, বিয়ে, পরিবার, দায়িত্ব, সম্পর্ক, সামাজিক চাপ, স্বপ্ন এবং ভবিষ্যৎ নিয়ে তাদের প্রত্যাশার মতো নানা অভিজ্ঞতা উঠে এসেছে। প্রদর্শনীতে আগত দর্শনার্থীরা ছবিগুলো দেখার পাশাপাশি সেগুলোর পেছনের গল্পগুলো শোনার এবং নিজেদের কমিউনিটিতে বাল্যবিবাহের বাস্তবতা নিয়ে নতুন করে ভাবার সুযোগ পেয়েছেন। তরুণ, কমিউনিটি সদস্য, যুব প্রতিনিধি ও বিভিন্ন অতিথির অংশগ্রহণে এই আয়োজন তরুণদের নেতৃত্বে তৈরি গল্পগুলো বৃহত্তর কমিউনিটির কাছে পৌঁছে দেওয়ার এবং শিশুবিবাহ নিয়ে অর্থবহ আলোচনার সুযোগ তৈরি করেছে।
RedOrange Limited এই আয়োজনে অংশগ্রহণ করে। RedOrange-এর প্রতিনিধি Jannatul Nayma Nafsi শিশুবিবাহের তিনটি গুরুতর প্রভাব তুলে ধরেন—এটি কিশোর-কিশোরীদের শিক্ষা ও ভবিষ্যতের সুযোগ বাধাগ্রস্ত করতে পারে, স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করতে পারে এবং নিজেদের জীবন ও ভবিষ্যৎ সম্পর্কে সিদ্ধান্ত নেওয়ার সক্ষমতা সীমিত করতে পারে। তিনি কিশোর-কিশোরীদের কথা শোনা এবং তাদের মতামতকে গুরুত্ব দেওয়ার ক্ষেত্রে পরিবারের ভূমিকার ওপর জোর দেন। একই সঙ্গে শিক্ষক, কমিউনিটি, বিভিন্ন সংগঠন ও তরুণদের সম্মিলিতভাবে কাজ করে এমন একটি নিরাপদ ও সহায়ক পরিবেশ তৈরির প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন, যেখানে কিশোর-কিশোরীরা নিজেদের কথা খোলামেলাভাবে বলতে এবং প্রয়োজনের সময় সহায়তা চাইতে পারে।
বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে বৈশ্বিক উদ্যোগের ক্ষেত্রেও আয়োজনটি ছিল সময়োপযোগী। ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ ২৭ নভেম্বরকে International Day for the Elimination of Child, Early and Forced Marriage হিসেবে ঘোষণা করে। এর মাধ্যমে বাল্য ও জোরপূর্বক বিবাহ প্রতিরোধে শিশুদের সুরক্ষা, শিক্ষা ও অধিকার নিশ্চিত করার জন্য বৈশ্বিকভাবে আরও কার্যকর উদ্যোগের সুযোগ তৈরি হয়েছে।
গল্পগুলো এসেছে ঢাকার করাইল এলাকা থেকে, কিন্তু সেগুলো যে প্রশ্ন সামনে এনেছে, তা শুধু করাইলের নয়, সারা দেওশর। এই প্রদর্শনী মনে করিয়ে দেয়, বাল্যবিবাহ প্রতিরোধের দায়িত্ব শুধু একটি পরিবারের নয়। এর জন্য পরিবার, কমিউনিটি ও তরুণদের একসঙ্গে সম্পৃক্ত এবং কাজ করতে হবে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো, তরুণদের জীবন ও ভবিষ্যৎকে সরাসরি প্রভাবিত করে এমন সিদ্ধান্তে তাদেরকে কেন্দ্রে রাখার গুরুত্ব উঠে এসেছে।
