“দুটি সন্তানের বেশি নয়, একটি হলে ভালো হয়”: ১ ডিসেম্বর থেকে দেশজুড়ে বছরব্যাপী পরিবার পরিকল্পনা কর্মসূচি শুরু হচ্ছে
দেশের পরিবার পরিকল্পনা কার্যক্রমে নতুন গতি ফিরিয়ে আনা এবং দম্পতিদের জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি গ্রহণে উৎসাহিত করতে আগামী ১ ডিসেম্বর থেকে দেশব্যাপী বছরব্যাপী পরিবার পরিকল্পনা কর্মসূচি শুরু করতে যাচ্ছে সরকার। স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হুসাইন এ ঘোষণা দিয়েছেন।
সচিবালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে মন্ত্রী জানান, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এ কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন। কর্মসূচিটি চলবে ২০২৭ সালের ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত।
দেশে পরিবার পরিকল্পনা কার্যক্রমে নতুন করে নানা চ্যালেঞ্জ দেখা দেওয়ার প্রেক্ষাপটে এ উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এসব চ্যালেঞ্জের মধ্যে রয়েছে জন্মনিয়ন্ত্রণের ব্যবহার কমে যাওয়া, প্রজনন হার বৃদ্ধি এবং বিনামূল্যে জন্মনিয়ন্ত্রণ সামগ্রী সরবরাহে বিঘ্ন। পাশাপাশি, সামগ্রীর ঘাটতি ও মাঠপর্যায়ে পর্যাপ্ত পরামর্শসেবার অভাবে পরিবার পরিকল্পনা এবং সন্তান জন্মের মধ্যবর্তী ব্যবধান সম্পর্কে দম্পতিদের সচেতন করার প্রচেষ্টাও ব্যাহত হচ্ছে।
সর্বশেষ মাল্টিপল ইন্ডিকেটর ক্লাস্টার সার্ভের (এমআইসিএস) তথ্য অনুযায়ী, ১৫ থেকে ৪৯ বছর বয়সী নারীদের মধ্যে জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি ব্যবহারের হার ২০১৯ সালের ৬২.৭ শতাংশ থেকে ২০২৫ সালে কমে ৫৮.২ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। অন্যদিকে, ২০১২ সালে গড় সন্তানসংখ্যা ২.৩ থাকলেও ২০২৫ সালে তা বেড়ে ২.৪ হয়েছে। এক দশকেরও বেশি সময় পর এই প্রথম প্রজনন হার বৃদ্ধির তথ্য পাওয়া গেল।
এ ছাড়া পরিবার পরিকল্পনার অপূর্ণ চাহিদা থাকা নারীদের হার ২০১৯ সালের ১৩.৭ শতাংশ থেকে বেড়ে ২০২৫ সালে ১৬.২ শতাংশে পৌঁছেছে। এই পরিসংখ্যান পরিবার পরিকল্পনা সেবায় প্রবেশাধিকার আরও জোরদার করার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে।
কোভিড-১৯ মহামারির পর বিনামূল্যে জন্মনিয়ন্ত্রণ সামগ্রীর সরবরাহ ধীরে ধীরে কমে আসায় পরিবার পরিকল্পনা কার্যক্রমের গতি হারাতে শুরু করে। ২০২৪ সালের জুনে চতুর্থ স্বাস্থ্য, জনসংখ্যা ও পুষ্টি খাত কর্মসূচির মেয়াদ শেষ হওয়ার পর পরিস্থিতির আরও অবনতি ঘটে। এই কর্মসূচির আওতায় অধিকাংশ জন্মনিয়ন্ত্রণ সামগ্রী কেনা হতো। নতুন প্রকল্প অনুমোদন এবং অর্থের বিলম্বের কারণে সামগ্রীর সংকট আরও তীব্র হয়।
পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের (ডিজিএফপি) মাঠপর্যায়ে জনবলের ঘাটতিও পরিস্থিতিকে জটিল করে তুলেছে। এর ফলে জন্মনিয়ন্ত্রণ সামগ্রী বিতরণ এবং দম্পতিদের পরামর্শসেবা দেওয়া ব্যাহত হচ্ছে। গত বছরের নভেম্বরে শুরু হওয়া একটি প্রকল্পের আওতায় আগামী নভেম্বরের মধ্যে জন্মনিয়ন্ত্রণ সামগ্রীর সরবরাহ পরিস্থিতির উন্নতি হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
বছরব্যাপী এই কর্মসূচি শুরুর প্রস্তুতির মধ্যে পরিবার পরিকল্পনা সেবায় টেকসই বিনিয়োগ নিশ্চিত করা গুরুত্বপূর্ণ। এর মাধ্যমে প্রত্যেক ব্যক্তি ও দম্পতি যেন জন্মনিয়ন্ত্রণ, সন্তান জন্মের মধ্যবর্তী ব্যবধান এবং নিজেদের প্রজননজীবন সম্পর্কে সচেতন ও স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত নিতে পারেন, তা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
