পিসিওএস থেকে পিএমওএস – কেন এই পরিবর্তন নিয়ে এত আলোচনা?

একটি রোগের নাম কি মানুষের চিকিৎসা, সচেতনতা এবং নিজের শরীরকে বোঝার ধরন বদলে দিতে পারে? প্রশ্নটি হয়তো অদ্ভুত শোনায়। কিন্তু পলিসিস্টিক ওভারি সিনড্রোম বা পিসিওএসের নাম পরিবর্তন করে পলিএন্ডোক্রাইন মেটাবলিক ওভেরিয়ান সিনড্রোম বা পিএমওএস করার প্রস্তাব সেই আলোচনাকেই নতুনভাবে সামনে এনেছে।

বিশ্বের বিভিন্ন দেশের চিকিৎসক, গবেষক এবং এই সমস্যায় আক্রান্ত ব্যক্তিদের দীর্ঘ আলোচনার পর বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, বর্তমান নামটি রোগটির প্রকৃত বৈশিষ্ট্য তুলে ধরতে পারছে না। কারণ, পিসিওএসে আক্রান্ত অনেকের ডিম্বাশয়ে সিস্ট থাকে না। ফলে শুধু “সিস্ট” শব্দটি রোগটি সম্পর্কে ভুল ধারণা তৈরি করেছে।

২০২৩ সালের আন্তর্জাতিক পিসিওএস গাইডলাইন, যা মনাশ ইউনিভার্সিটি, আমেরিকান সোসাইটি ফর রিপ্রোডাকটিভ মেডিসিন (এএসআরএম) এবং ইউরোপিয়ান সোসাইটি অব হিউম্যান রিপ্রোডাকশন অ্যান্ড এমব্রায়োলজি (ইএসএইচআরই) যৌথভাবে প্রকাশ করেছে, বলছে বিশ্বে প্রজনন বয়সী নারীদের প্রায় ৮ থেকে ১৩ শতাংশ এই সমস্যায় আক্রান্ত। অথচ প্রায় ৭০ শতাংশ ক্ষেত্রেই রোগটি শনাক্ত হয় না।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি শুধু প্রজনন স্বাস্থ্য সমস্যা নয়। হরমোনের ভারসাম্যহীনতা, ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স, বিপাকীয় জটিলতা, টাইপ-২ ডায়াবেটিস এবং হৃদ্‌রোগের ঝুঁকির সঙ্গেও এই রোগের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। অনিয়মিত মাসিক, ব্রণ, অতিরিক্ত লোম, ওজন বৃদ্ধি, বন্ধ্যাত্ব, উদ্বেগ এবং বিষণ্নতার মতো উপসর্গ একই সমস্যার অংশ হতে পারে।

নতুন নামের মাধ্যমে রোগটির এই বহুমাত্রিক দিকগুলোকে গুরুত্ব দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে। এতে চিকিৎসক ও সাধারণ মানুষ উভয়ের মধ্যেই বিষয়টি নিয়ে আরও বাস্তবভিত্তিক ধারণা তৈরি হতে পারে।

তবে শুধু নাম পরিবর্তনেই সব সমস্যার সমাধান হবে না। প্রয়োজন সময়মতো রোগ শনাক্ত করা, চিকিৎসকদের প্রশিক্ষণ, সহজলভ্য স্বাস্থ্যসেবা এবং নারীদের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি।

বাংলাদেশের মতো দেশে, যেখানে মাসিক ও প্রজনন স্বাস্থ্য নিয়ে কথা বলতেও অনেক সময় সংকোচ কাজ করে, সেখানে এই পরিবর্তন নতুন আলোচনা শুরু করার সুযোগ তৈরি করতে পারে। রোগটিকে শুধু সন্তান ধারণের সঙ্গে নয়, বরং নারীর সার্বিক শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের অংশ হিসেবে দেখার সংস্কৃতি গড়ে তোলাই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

শেষ পর্যন্ত, একটি নাম হয়তো রোগ বদলায় না। কিন্তু সেই নাম মানুষের দৃষ্টিভঙ্গি বদলাতে পারে, আর অনেক সময় সেখান থেকেই শুরু হয় পরিবর্তনের পথ।

Leave a Reply