কিশোরীদের অধিকার সুরক্ষায় প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ: ইয়ুথ শেয়ার-নেটের সহায়তায় আভাস-এর আয়োজন
একজন কিশোরীর নিরাপত্তা শুধু ঘরে, বিদ্যালয়ে কিংবা রাস্তায় সীমাবদ্ধ নয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার অভিজ্ঞতা, শরীর ও স্বাস্থ্য নিয়ে প্রশ্ন করার সুযোগ এবং নির্ভরযোগ্য তথ্য পাওয়ার অধিকারও এর অংশ। অথচ অনলাইনে সহিংসতা, মাসিক নিয়ে সংকোচ এবং যৌন ও প্রজনন স্বাস্থ্য বিষয়ে ভুল তথ্য অনেক কিশোরীর জন্য এখনো বড় বাধা।
এই বাস্তবতায় ১৩ অক্টোবর বরিশালের সরকারি শিশু পরিবার (দক্ষিণ)-এ কিশোরীদের নিয়ে একটি সচেতনতামূলক সেশন অনুষ্ঠিত হয়। যৌন ও প্রজনন স্বাস্থ্য অধিকার (এসআরএইচআর), সাইবার বুলিং এবং প্রযুক্তির মাধ্যমে সংঘটিত জেন্ডারভিত্তিক সহিংসতা নিয়ে আলোচনা হয় সেখানে। পাশাপাশি মাসিক স্বাস্থ্য, পরিচ্ছন্নতা ও স্যানিটেশন বিষয়ে সচেতনতা বাড়াতে একটি কর্নার স্থাপন করা হয়, যেখানে কিশোরীরা নিজেদের অভিজ্ঞতা ভাগ করে নেওয়ার সুযোগ পায়।
ইয়ুথ শেয়ার-নেট প্রকল্পের আওতায় রেডঅরেঞ্জের আয়োজনে এবং অ্যাম্পলিফাই চেইঞ্জের সহযোগিতায় কার্যক্রমটি বাস্তবায়ন করে বরিশালের অধিকারভিত্তিক সংগঠন অ্যাসোসিয়েশন অব ভলান্টারি অ্যাকশনস ফর সোসাইটি (আভাস)।
বাংলাদেশে এ বিষয়ে উদ্বেগের যথেষ্ট কারণ রয়েছে। ইউনিসেফের তথ্য অনুযায়ী, ২০ থেকে ২৪ বছর বয়সী নারীদের প্রায় ৫১ শতাংশের বিয়ে হয়েছিল ১৮ বছর পূর্ণ হওয়ার আগেই। অন্যদিকে, ২০২৫ সালে প্রকাশিত বাংলাদেশের কিশোরীদের ওপর একটি গবেষণায় সাইবার বুলিংয়ের শিকার মেয়েদের মধ্যে গুরুতর বিষণ্নতাজনিত ব্যাধির হার বেশি পাওয়া গেছে। অর্থাৎ, মেয়েদের নিরাপত্তা, মানসিক সুস্থতা এবং নিজের জীবন সম্পর্কে সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার পরস্পরের সঙ্গে সম্পর্কিত।
তবে একটি সচেতনতামূলক আয়োজনের মধ্য দিয়ে এসব সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়। প্রয়োজন নিয়মিত স্বাস্থ্যশিক্ষা, গোপনীয়তা বজায় রেখে অভিযোগ জানানোর ব্যবস্থা, সহজলভ্য কাউন্সেলিং এবং সহিংসতার ঘটনায় কার্যকর পদক্ষেপ। মাসিক, সম্মতি, ব্যক্তিগত গোপনীয়তা ও সুস্থ সম্পর্ক নিয়ে খোলামেলা আলোচনার পরিবেশও তৈরি করতে হবে।
আসল সাফল্য শুধু কতজন কিশোরী সেশনে অংশ নিল, তা দিয়ে মাপা যাবে না। বরং তারা পরবর্তী সময়ে নিজেদের স্বাস্থ্য নিয়ে প্রশ্ন করতে পারছে কি না, সহিংসতার শিকার হলে সহায়তা চাইতে পারছে কি না এবং নিজের বিষয়ে informed সিদ্ধান্ত নিতে পারছে কি না, সেটিই গুরুত্বপূর্ণ।
কিশোরীদের শুধু নিরাপদ থাকার পরামর্শ দিলেই দায়িত্ব শেষ হয় না। তাদের এমন পরিবেশ দিতে হবে, যেখানে নিরাপত্তা, মর্যাদা ও নিজের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার বাস্তবে নিশ্চিত হয়, অনলাইনেও, বাস্তব জীবনেও।
