প্রজনন স্বাস্থ্য নিয়ে কিশোরদেরও প্রশ্ন থাকে, উত্তর পাবেন কার কাছ থেকে?

বয়ঃসন্ধিতে একটি ছেলের শরীরে নানা পরিবর্তন আসে। সেই পরিবর্তন নিয়ে তার মনে প্রশ্নও তৈরি হয়। কোন পরিবর্তন স্বাভাবিক? কার কাছে এসব কথা বলা যায়? লজ্জা না পেয়ে কোথা থেকে সঠিক তথ্য পাওয়া যাবে? বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সম্মতি, ব্যক্তিগত সীমা, সম্মানজনক সম্পর্ক ও যৌন ও প্রজনন স্বাস্থ্য নিয়েও প্রশ্ন তৈরি হয়।

কিন্তু এসব প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার জন্য সব ছেলের জীবনে নির্ভরযোগ্য জায়গা থাকে না।২০২২ সালে গ্রামীণ বাংলাদেশের ২ হাজার ৭২৪ জন স্কুলপড়ুয়া কিশোর-কিশোরীর ওপর পরিচালিত এক গবেষণায় দেখা যায়, বয়স, পড়াশোনার বছর এবং শিক্ষকদের সম্পৃক্ততার সঙ্গে বয়ঃসন্ধি সম্পর্কে জ্ঞানের সম্পর্ক রয়েছে। গবেষণাটিতে আরও দেখা যায়, কিশোর ছেলেদের বয়ঃসন্ধি সম্পর্কে জ্ঞান কিশোরীদের তুলনায় কম ছিল। 

বাংলাদেশে ১৫ থেকে ২৪ বছর বয়সী ১১ হাজারের বেশি তরুণের ওপর পরিচালিত একটি বড় গবেষণায় পুরুষদের যৌন ও প্রজনন স্বাস্থ্য, বয়ঃসন্ধি, স্বাস্থ্যসেবা নেওয়ার আচরণ, যৌনতা, পুরুষত্বের সামাজিক ধারণা এবং পারিবারিক সম্পর্ক নিয়ে তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। এই গবেষণা দেখায়, কিশোর ও তরুণ ছেলেদের এসআরএইচআর নিয়ে আরও তথ্যভিত্তিক গবেষণার প্রয়োজন রয়েছে।

আরেকটি গবেষণায় বাংলাদেশের তরুণ পুরুষদের অভিজ্ঞতা বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, যৌনতা নিয়ে বাবা-মায়ের নীরবতা এবং স্কুলে সীমিত আলোচনা ছেলেদের তথ্যের জন্য বন্ধুদের ওপর বেশি নির্ভরশীল করে তুলতে পারে। গবেষণায় পাওয়া যায়, এসব তথ্য অনেক সময় অসম্পূর্ণ, অনির্ভরযোগ্য এবং প্রচলিত পুরুষত্বের ধারণা দ্বারা প্রভাবিত।

তাই এসআরএইচআর শিক্ষা শুধু বয়ঃসন্ধির শারীরিক পরিবর্তন বোঝানোর মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলে চলবে না। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলছে, বয়স উপযোগী যৌনতা ও প্রজনন স্বাস্থ্য শিক্ষায় বয়ঃসন্ধির পাশাপাশি সম্পর্ক, সম্মতি, ব্যক্তিগত সীমা, জেন্ডার সমতা, নিরাপত্তা, গর্ভনিরোধ, যৌনবাহিত সংক্রমণ এবং প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবা পাওয়ার বিষয়গুলোও থাকা উচিত।

বাংলাদেশের সাম্প্রতিক গবেষণাতেও ইতিবাচক সম্ভাবনার দিকটি দেখা গেছে। ২৩৪ জন কিশোর ছেলেকে নিয়ে ২০২৫ সালের একটি গবেষণায় জেন্ডার ইক্যুইটি মুভমেন্ট ইন স্কুলস কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের জেন্ডার বিষয়ে জ্ঞান বেশি পাওয়া যায়। তবে গবেষকেরা সতর্ক করেছেন, জ্ঞান বাড়লেই সব সময় দৃষ্টিভঙ্গিতে একই ধরনের পরিবর্তন আসে না। পরিবার ও সামাজিক পরিবেশও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। নিজের শরীর বোঝা, ভুল ধারণা থেকে বেরিয়ে আসা, অন্যের সীমা ও সম্মতিকে সম্মান করা এবং প্রয়োজন হলে নির্ভরযোগ্য সহায়তা নেওয়ার সক্ষমতা তৈরিও এর অংশ।

Leave a Reply