জাতিসংঘে বাংলাদেশের প্রতিশ্রুতি: সুইডেন ও UNFPA-এর সমর্থনে সৃষ্টি হচ্ছে ২৫ হাজার মিডওয়াইফারি পদ
নারীদের জন্য গর্ভাবস্থা, সন্তান জন্মদান এবং প্রসব-পরবর্তী সময়ে বাড়ির কাছাকাছি দক্ষ স্বাস্থ্যসেবা পাওয়ার সুযোগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশে মিডওয়াইফারি সেবা শক্তিশালী করার নতুন অঙ্গীকার প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবাকে আরও কার্যকর ও মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার প্রচেষ্টার কেন্দ্রে এই সেবাকে নিয়ে আসছে।
বাংলাদেশ ও সুইডেন, জাতিসংঘ জনসংখ্যা তহবিল (UNFPA)-এর অংশীদারত্বে, প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবায় মিডওয়াইফদের ভূমিকা আরও শক্তিশালী করা এবং মানসম্মত যৌন ও প্রজনন স্বাস্থ্য,মাতৃ ও নবজাতকের স্বাস্থ্যসেবার সুযোগ সম্প্রসারণের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছে।
২৪ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের প্রাক্কালে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এই অঙ্গীকারের কথা জানানো হয়। “From Commitment to Action: Integrating Midwifery into Primary Health Care to End Preventable Maternal and Newborn Deaths” শীর্ষক অনুষ্ঠানে সরকারি প্রতিনিধি, জাতিসংঘের প্রতিনিধি, নাগরিক সমাজের সংগঠন অংশ নেন।
আলোচনার অন্যতম প্রধান বিষয় ছিল বাংলাদেশের প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থায় ২৫,০০০ মিডওয়াইফারি পদ সৃষ্টির অঙ্গীকার। এই উদ্যোগ স্বাস্থ্যকর্মী হিসেবে মিডওয়াইফদের গুরুত্ব এবং মানুষের বসবাসের কাছাকাছি দক্ষ সেবা পৌঁছে দেওয়ার প্রয়োজনীয়তাকে তুলে ধরে।
অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নারীদের বসবাসের কাছাকাছি মিডওয়াইফারি সেবা নিশ্চিত করার গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন,
“প্রত্যেক নারীর প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবার অংশ হিসেবে একজন দক্ষ ও পেশাদার মিডওয়াইফেরি সেবার সুযোগ থাকা উচিত এবং সেই সেবা হতে হবে তার বসবাসের কাছাকাছি। বাংলাদেশের জন্য এর অর্থ হলো দেশজুড়ে মিডওয়াইফদের নিয়োগ দেওয়া, কমিউনিটি ও স্বাস্থ্যসেবা এবং রেফারেল ব্যবস্থা শক্তিশালী করা এবং আধুনিক ডিজিটাল স্বাস্থ্যব্যবস্থার মাধ্যমে নাগরিকদের সংযুক্ত করা।”
তিনি আরও বলেন, “এই পদক্ষেপগুলো একসঙ্গে আমাদের একটি সুস্থ, সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তুলতে সহায়তা করবে। এভাবেই আমরা অঙ্গীকার থেকে বাস্তবায়নের দিকে এগিয়ে যাব।”
আলোচনায় মিডওয়াইফারি শিক্ষা, নিয়োগ ও কর্মস্থলে মোতায়েন, পরিচালনব্যবস্থা এবং অর্থায়নের বিষয়গুলোও গুরুত্ব পায়। একই সঙ্গে স্বাস্থ্যকর্মী ব্যবস্থায় দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগের সুযোগ নিয়েও আলোচনা করা হয়।
সুইডেন ‘যৌন ও প্রজনন স্বাস্থ্য ও অধিকার’ এগিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি স্বাস্থ্যব্যবস্থা ও স্বাস্থ্যকর্মীদের শক্তিশালী করার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছে। সুইডেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মারিয়া মালমার স্টেনারগার্ড বলেন, “মিডওয়াইফদের পেছনে বিনিয়োগ শুধু স্বাস্থ্যখাতে বিনিয়োগ নয়। এটি সমতা, সুযোগ এবং আমাদের সম্মিলিত ভবিষ্যতের ওপর বিনিয়োগ।”
UNFPA বাংলাদেশের ২৫,০০০ পেশাদার মিডওয়াইফারি পদ সৃষ্টি ও নিয়োগের অঙ্গীকারকে স্বাগত জানিয়েছে এবং সংস্থাটির মিডওয়াইফারি অ্যাক্সেলারেটর উদ্যোগের চ্যাম্পিয়ন হিসেবে বাংলাদেশের ভূমিকার কথাও তুলে ধরেছে।
বাংলাদেশের নারীদের জন্য প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবায় মিডওয়াইফারিকে শক্তিশালী করার এই উদ্যোগ নিরাপদ গর্ভাবস্থা ও সন্তান জন্মদানের বাইরেও গুরুত্বপূর্ণ। মিডওয়াইফরা যৌন ও প্রজনন স্বাস্থ্য ও অধিকারসেবা পাওয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশদ্বার হয়ে উঠতে পারেন। কমিউনিটির কাছাকাছি সেবা, শক্তিশালী রেফারেল ব্যবস্থা এবং দক্ষ স্বাস্থ্যকর্মীর সমন্বয়ে মিডওয়াইফারি সেবার বিস্তার নারীদের জন্য আরও সহজলভ্য, সময়োপযোগী ও মর্যাদাপূর্ণ যৌন ও প্রজনন স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে ভূমিকা রাখতে পারে।
