কাপাসিয়ার মডেলের নীরব ব্যর্থতা: অর্থায়ন ও জনবলের অভাবে মাতৃস্বাস্থ্যের চমৎকার এই উদ্যোগটি আজ সংকটে
গাজীপুরের কাপাসিয়ায় একসময় যে মডেল মায়েদের জীবন বাঁচিয়েছিল, সেটা এখন ধীরে ধীরে ভেঙে পড়ছে। ২০১৭ সালে আটজন মায়ের মৃত্যু থেকে ২০২১ সালে একজনে নেমে আসা সেই সাফল্য আজ হুমকির মুখে। অর্থায়ন ও জনবলের সংকটে হাজার হাজার গর্ভবতী নারীদেরকে নিজেদের ভাগ্যের ওপর ছেড়ে দেওয়া হচ্ছে।
কাপাসিয়া মডেলের দুই স্তম্ভ ছিল ডিজিটাল রেজিস্ট্রি ‘গর্ভবতীর আয়না’ এবং হাতে দেওয়া হ্যান্ডবুক ‘গর্ভবতীর গয়না’। দুটোই এখন নিষ্ক্রিয়। আয়রন, ক্যালসিয়াম ও ভিটামিন বি ট্যাবলেটের মজুদ মার্চের পর আর আসেনি। চিকিৎসক, পরিবার কল্যাণ পরিদর্শক ও সহকারীদের পদ ফাঁকা। রাতের জরুরি সেবা নেই। অনেক ইউনিয়ন স্বাস্থ্যকেন্দ্র দিনের বেলাও তালাবন্ধ থাকে।
এক যুবতী মায়ের ঘটনা চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছে সমস্যার গভীরতা। রাতের অন্ধকারে প্রসববেদনা শুরু হলে কাছের কেন্দ্রে জরুরি সেবা না থাকায় তাকে সিএনজি করে নিয়ে যাওয়ার পথে সন্তান জন্ম হয়। পরে রক্তক্ষরণে তিনি মারা যান। পরিবার সাধারণ রক্তপাত ভেবেছিল। কর্মকর্তারা সাংবাদিকদের কাছ থেকে খবর পান।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলছে, প্রসবোত্তর রক্তক্ষরণ এখনো মাতৃমৃত্যুর অন্যতম প্রধান কারণ। আয়রনের অভাবে রক্তস্বল্পতা এই ঝুঁকি বাড়ায়। ল্যানসেট ও ইউএনএফপিএর গবেষণায় দেখা গেছে, স্থায়ী কমিউনিটি স্বাস্থ্যকর্মী ও নিয়মিত ওষুধ সরবরাহ মাতৃমৃত্যু কমায়। যখন এগুলো বন্ধ হয়ে যায়, সাফল্য উল্টে যায়।
যৌন ও প্রজনন স্বাস্থ্য অধিকারের মধ্যে নিরাপদ গর্ভধারণ ও জরুরি সেবার অধিকারও আছে। কাপাসিয়ায় প্রায় আড়াই হাজার গর্ভবতী এই অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। একসময় ১০০ উপজেলায় ছড়িয়ে দেওয়ার কথা ছিল এই মডেল। এখন এটি সতর্কবার্তা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সরকার নতুন প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা মডেলের কথা বলছে। কিন্তু সেটা বাস্তবায়িত হওয়ার আগেই আরো মায়েরা ঝুঁকির মুখে পড়বে কি না, সেটাই এখন সবচেয়ে জরুরি প্রশ্ন।
