বাল্যবিবাহ বন্ধে বিশ্বজুড়ে নতুন অঙ্গীকার: ২৭ নভেম্বর-কে বাল্য ও জোরপূর্বক বিবাহ বিলুপ্তির আন্তর্জাতিক দিবস ঘোষণা

জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ একটি ঐতিহাসিক প্রস্তাব গ্রহণ করে ২৭ নভেম্বরকে বাল্য ও জোরপূর্বক বিবাহ বিলুপ্তির আন্তর্জাতিক দিবস হিসেবে ঘোষণা করেছে।

জাতিসংঘের ১৯৩টি সদস্য রাষ্ট্রের সর্বসম্মতিতে গৃহীত এই প্রস্তাবে বাল্য ও জোরপূর্বক বিবাহকে শুধু একটি সামাজিক প্রথা হিসেবে নয় বরং একটি গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘন এবং টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (SDGs) অর্জনের পথে একটি বড় বাধা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে।

প্রস্তাবে সদস্য রাষ্ট্র, সুশীল সমাজের সংগঠন এবং আন্তর্জাতিক অংশীদারদের এসব ক্ষতিকর প্রথা প্রতিরোধ ও শেষ করার জন্য আরও জোরালোভাবে কাজ করার আহ্বান জানানো হয়েছে।

আফ্রিকার ফার্স্ট লেডিদের সংগঠন, তৃণমূল পর্যায়ের সংগঠন এবং শিশু অধিকারকর্মীদের নেতৃত্বে কয়েক বছর ধরে চলা সম্মিলিত প্রচেষ্টার ফল হিসেবে এই আন্তর্জাতিক দিবসের ঘোষণা এসেছে। এই উদ্যোগের অন্যতম প্রধান প্রবক্তা ছিলেন সিয়েরা লিওনে-এর ফার্স্ট লেডি এবং Organization of African First Ladies for Development (OAFLAD)-এর প্রেসিডেন্ট ডা. ফাতিমা মাদা বায়ো।

এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে ডা. ফাতিমা মাদা বায়ো বলেন, এই প্রস্তাব এমন একটি বৈশ্বিক অঙ্গীকারের প্রতিফলন, যার লক্ষ্য শিশুদের, বিশেষ করে মেয়েদের, বেড়ে ওঠা,স্বপ্ন দেখা এবং নিজেদের সম্ভাবনা পূরণের সুযোগ নিশ্চিত করা।

তিনি বলেন, “আজ বিশ্ব এক কণ্ঠে বলেছে: বাল্য ও জোরপূর্বক বিবাহের আমাদের সমাজে কোনো স্থান নেই।” তিনি আরও উল্লেখ করেন, এই ঘোষণা যেন বাস্তব ও অর্থবহ পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য একটি বৈশ্বিক নির্দেশনা হিসেবে কাজ করে।

এই উদ্যোগের আরেকজন গুরুত্বপূর্ণ প্রবক্তা ছিলেন Just Rights for Children-এর প্রতিষ্ঠাতা ভুবন রিভু, যিনি Commission on the Status of Women-এ এই আন্তর্জাতিক দিবস ঘোষণার আহ্বান জানান। প্রস্তাবটি গৃহীত হওয়ার পর তিনি বলেন, এখন মূল গুরুত্ব দিতে হবে জবাবদিহিতা ও সমন্বিত পদক্ষেপের ওপর।

তিনি সরকার, সুশীল সমাজ, ধর্মীয় নেতা, বিভিন্ন সম্প্রদায় এবং শিশুদের একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান। প্রতিরোধ ও সুরক্ষা নিশ্চিত করার পাশাপাশি বাল্যবিবাহকে অপরাধ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেন। তিনি ২০৩০ সালের মধ্যে বাল্যবিবাহ বন্ধে সরকারগুলোকে দৃঢ় নেতৃত্ব দেওয়ার আহ্বানও জানান।

ডা. ফাতিমা মাদা বায়ো নেতৃত্বে সিয়েরা লিওনের ফার্স্ট লেডির কার্যালয় নারী ও শিশুদের অধিকার এগিয়ে নিতে কাজ করছে। তাদের কাজের মধ্যে শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা এবং জেন্ডারভিত্তিক সহিংসতা দূর করার উদ্যোগ রয়েছে।

ভুবন রিভু প্রতিষ্ঠিত বৈশ্বিক শিশু অধিকার নেটওয়ার্ক (Just Rights for Children) শিশুদের সব ধরনের শোষণ বন্ধ এবং প্রতিটি শিশুর নিরাপদ, সুস্থ ও মর্যাদাপূর্ণ শৈশব নিশ্চিত করার লক্ষ্যে কাজ করে। সংগঠনটির দাবি অনুযায়ী, ২০২৩ সাল থেকে তারা ৫ লাখ ৫০ হাজারের বেশি বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ ও বন্ধ করেছে।

২৭ নভেম্বরকে আন্তর্জাতিক দিবস হিসেবে ঘোষণার মধ্য দিয়ে বাল্য ও জোরপূর্বক বিবাহ বিলোপের জন্য বৈশ্বিক সচেতনতা ও সম্মিলিত উদ্যোগ আরও জোরদার করার একটি নির্দিষ্ট প্ল্যাটফর্ম তৈরি হলো।

 

Leave a Reply